Banner

মঙ্গলবার, জুলাই 25th, 2017

অভিভাবকের কেন্দ্রে প্রবেশ সংক্রান্ত নোটিস।

হ্যাঁ। সত্যি সত্যি একটা মাকড়সা। আমার আটটা পা গজাল শরীরের নানা জায়গা দিয়ে। ভুল বললাম, আটটা পা নয়, নতুন গজাল আসলে চারটি পা। দুটো পা তো আমার আগে থেকেই ছিল। আর আমার হাত দুটোও পা হয়ে গেল। আটপা নিয়ে বড্ড বিপদে পড়লাম আমি।

ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম, পৌনে পাঁচটা বাজে। অথচ এত আগে আমার ঘুম ভাঙার কথা নয়। প্রতিদিনই আমি ঘুম থেকে দেরি করে উঠি। আপু এসে প্রতিদিন আমার ঘুমের বারটা বাজায়। ছয়টা বাজলেই আমার ঘরে এসে দরজায় কড়া নাড়ে। আমার সাড়া না পেলে জানালা দিয়ে ডাকাডাকি করে। তাতেও যদি আমি সাড়া না দেই, আমার গায়ে পানি ছুড়ে মারে। বড্ড বিরক্ত লাগে আমার। উফ! আপুটা আমাকে একটা সকালেও শান্তিতে ঘুমোতে দিল না। আজ সুযোগ পেয়েছি। আপুর আগে ঘুম ভেঙেছে আমার। তার উপর আমি হয়ে গেছি একটা মাকড়সা।

হুঁ। মাকড়সাই তো। ওই তো আয়নায় দেখতে পাচ্ছি আমাকে। আমার পড়ার টেবিলের পাশে একটা লম্বা আয়না। ওটা আগে ছিল মায়ের আয়না। মা নতুন একটা ড্রেসিং টেবিল কেনার পর আয়নাটা আমাকে দিয়ে দেন। অথচ আয়না আমার মোটেও দরকার ছিল না। শুনে মা বলেছিলেন, “বলিস কী! আয়না দরকার নেই মানে?”

“ছেলে মানুষ আমি। আয়না দিয়ে কী করব? ওটা তো মেয়েদের কাজে লাগে।”

“বাহ! মাথা আঁচড়ে আয়নায় দেখিস না?”

“না তো!”

“তবে কী করে বুঝবি, মাথাটা ঠিক মতো আঁচড়ানো হল কি না?”

“ও এমনিতেই বোঝা যায়। মাথায় হাত দিলেই বুঝতে পারি।”

“তাছাড়া নতুন জামাকাপড় পরে তো আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে দেখতে হয়, ঠিক আছে কি না।”

“আমার দেখতে হয় না। ঠিক না থাকলে আমি বুঝতে পারি। আমার অস্বস্তি হয়।”

“আহ! এত কথা বলিস না তো! আয়নাটা রাখার মতো আর কোনো জায়গা নেই ঘরে। তোর ঘরটা ফাঁকা আছে। এটা ওখানে থাকবে। বুঝেছিস?”

খানিকটা চেঁচিয়েই বললেন মা। বুঝলাম, আয়নাটা আমার ঘরে রাখতেই হবে। উপায় নেই। কোনো দিন ভেঙে গেলে তবে ঘর থেকে বিদায় হবে। কতদিন ভেবেছিলাম ভেঙে ফেলব। কিন্তু এমনি এমনি তো ভাঙা যাবে না। মা কষ্ট পাবেন। ভাগ্যিস ভাঙিনি। ভাঙলে তো মাকড়সা হওয়ার পর আর নিজেকে দেখতে পেতাম না! এমনকি হয়তো টেরই পেতাম না যে আমি মাকড়সা হয়ে গেছি। ভালোই হল। আপুকে ভয় দেখাতে পারব আজ। আপু মাকড়সাকে ভীষণ ভয় পায়। আট পায়ে গুটি গুটি হেঁটে আপুর ঘরের দিকে এগিয়ে গেলাম। আপুর ভয় পাওয়া মুখের ছবি ভেসে উঠল আমার চোখে। কী মজা! কী মজা!

আটপায়ে গুটি গুটি করে আমি এগিয়ে গেলাম আপুর ঘরের দিকে। আপুর ঘরের দরজা বন্ধ। কী করি? আমি কি দেয়াল বেয়ে উঠতে পারব? মনে হয় পারব। আমি তো এখন মাকড়সা। দেয়াল বেয়ে উঠতে চাইলাম। খানিকটা উঠেও গেলাম। তারপর ধুপ করে পড়ে গেলাম নিচে।

আবার উঠলাম। আগের চেয়ে বেশ খানিকটা উপরে। আরেকটু উঠতে পারলেই আপুর ঘরের ঘুলঘুলি দিয়ে দেখতে পাব ভেতরে।

কিন্তু বেশিদূর উঠতে পারলাম না। পড়ে গেলাম আবারও। এবার শব্দ হল আগের চেয়ে বেশি। কিন্তু আমি কোন ব্যথাই পেলাম না। অবাক হলাম। ব্যথা না পাওয়ায় উপরে ওঠার সাহস আরও বেড়ে গেল। যে করেই হোক, দেয়াল বেয়ে আমাকে উঠতেই হবে। আবারও দেয়াল বেয়ে উঠতে যাব, অমনি আপুর ঘরের দরজা খুলে গেল। ঘুম ঘুম চোখে ঘর থেকে বেরিয়ে এল আপু। আর বেরিয়েই দেখতে পেল আমাকে। আমাকে দেখেই চিৎকার দিয়ে উঠল, “ও মা-আ-আ-আ গো-ও-ও-ও…, বা-আ-আ-বা গো-ও-ও-ও…।”

Site By-astutehorse